1. [email protected] : Annayer Chitro : Annayer Chitro
  2. [email protected] : struggle : Jaffrey Alam
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম ->>
মোটর সাইকেল চোর ও মাদক ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি মুরাদ আলী! অশান্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী মহানগরী; আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা! আদালতে চলমান মামলা ও ১৪৪ ধারা জারিকৃত সম্পত্তি দখল, বিবাদীর বাড়ির রাস্তা বন্ধ শেখ হাসিনা’র ৭৫তম জন্মদিনে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর শুভেচ্ছা সোনাগাজীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের মামলায় দেড় বছর কারাবন্ধী সাংবাদিক মীর জামাল বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তার উপদ‌ষ্টো কে ফু‌লের শু‌ভেচ্ছা জানা‌লেন বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তা প‌রিবার! জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে নিজ অর্থে রাস্তা মেরামত বরগুনায় ১০০ পিচ ইয়াবা সহ ১১ মামলার আসামী রিয়াজ গ্রেফতার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন

অদৃশ্য ইশারায় চলছে শাহ আলী থানা এলাকার মাদক বানিজ্য !

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ৩৫৮ বার পঠিত

এস এম রাসেলঃ-

মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ,বি,এম আসাদুজ্জামান। তিনি যোগদান করার পরই সাঁড়াশি অভিযানের কারনে টনক নড়েছে শাহআলী কেন্দ্রিক বড় মাপের মাদক কারবারি, চিহৃিত চাঁদাবাজ, ও সন্ত্রাসীদের।

তারপরেও কিছু মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে সেলসম্যানদের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ওসি শুদ্ধি অভিযানের করনে অনেক মাদক কারবারি ও দাগী সন্ত্রাসীরা গাঁঢাকা দিলেও কতিপয় কিছু অসৎ পুলিশ সদস্যের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সু’সম্পর্ক থাকার ফলে অপরাধ নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণের শতচেষ্টা করেও এর শতভাগ সুফল আসছে না বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।


এর ফলে শাহআলী থানা এলাকা এখন নানা অপরাধ আর অনিয়মের অভয় অরন্য হিসেবে পরিনত হয়েছে। দিন দুপুরে গাড়ী কিংবা বাড়ীতে হচ্ছে চুরি। চিড়িয়াখানা থেকে সনি হল পর্যন্ত রাতের বেলায় সারিবদ্ধ ভাবে রাস্তার দু-পাশে গাড়ী থাকার কারনে নিরব স্থান পেয়ে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই ও অনেক সময় ঘটছে ধর্ষণের মত ঘটনাও।

 

তার উপর ব্যস্থতম এই সড়কটিতে বিদ্যুৎচালিত ল্যাম্প পোষ্টের খুঁটি থাকলেও ঠিকমতো জলে না বাঁতি! এ কারনে নিশি কন্যাদের বেড়েছে অবাধ বিচরণ। দিনের বেলাতে ফুটপাতে কাচাঁবাজার, দোকান পাট বসিয়ে শাহআলী থানা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এ সকল ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায় করছেন এক শ্রেণির স্বার্থলোভী মহল। তারা নিয়মিত  তাদের নিয়োগকৃত ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে এ চাঁদাবাজী করছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।

এছাড়া বিভিন্ন অলিগলিতে হয় মাদক কারবার, বস্তিঘর গুলতে রাত ঘনিয়ে এলেই বসে জুয়া ও মাদকের আসর। কি হয় না এখানে ! খুব সহজেই হাতের নাগালেই নিউ সি ব্লকের ফতের স্পটে এখনো মিলে মাদক! সেখানে পরিচিত কাষ্টমার কেউ দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কানে আসবে, কয় গোটা (ইয়াবা) লাগবে।

গাঁজা এবং পাতাও আছে হাত বাড়ানোর আগেই মাদক নিয়ে হাজির হবে হাজীরোড ও ঝিলপার বস্তির অনেক মাদক কারবারি। আর এই মাদক কারবার চলে গুদাড়া ঘাট, থানার পাশের শাহীন পুকুর বস্তি, বক্সনগরে ভেতরে পাখী, আখীর পরিবারের মাদক কারবার অনেকটাই প্রকাশ্যে। কোনো ভয়ভীতি নেই এই মাদক কারবারিদের। বলা চলে শাহ্আলী থানার এ সকল এলাকায় বহুদিন ধরেই মাদক বিকিকিনির এই দৃশ্য অনেকটাই পুরনো।

মাঝে মধ্যে শাহ্আলী থানা পুলিশের অভিযান চলে, গ্রেফতারও হয়েছে অনেক মাদক বিক্রেতা। তবে কিছু দিন যেতে না যেতেই আবার একই চিত্র হয়ে উঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ঢিলেঢালা অভিযানের ফলে করোনাকালে সেখানে মাদকের আখড়া আরও জমজমাট হয়ে উঠেছিল, যা একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ সকল তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, “থানার গুটি কয়েক অসাধু পুলিশ সদস্য শাহ্ আলী কেন্দ্রিক এই মাদক কারবার টিকিয়ে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে আসছে। নিয়মিত তারা মাদক কারবারিদের কাছ থেকে লাইনম্যানের মাধ্যমে মাসোয়ারা নেয়। আর্থিক লোভে তাদের কারণেই, নিউ-সি ব্লকের ফতের স্পট এখনো সচল।

মাদক সম্রাজ্ঞী ফতে পলাতক থাকলেও ২০/২১/২৩/ নম্বর রোড, স্পট সচলরেখে মাদক বিক্রি করছে, ফতের ভাই রতন (৩২) তার সহযোগী রনি (২৬) পিতা তাজুল, আলম ও নাছির বাবু ২০ নম্বর রোডে, রাজু ও তার স্ত্রী বিলকিস দু’জনেই ২০ নম্বর রোড, বাতেন ও হক মিয়ার ছেলে শাওন ১৭ নম্বর রোডে, এছাড়া সুমন রয়েছে (২১) নম্বর রোডে ও মসজিদের পাশের রোডে শিপন (৩০) রুবেল (২৭) ডি ব্লকের প্রিন্স (৩৪) ও শওকত আলী ছাড়াও জি-ব্লকের ভুলু (২৫)।

বক্সনগড়ে ১/২/৩/ রোডে মাদক ব্যবসায়ী পাখি ও আখী গ্রেফতার হলেও বের হয়ে এসে আবার শুরু করেছে একই ব্যবসা। পলাশ (২০), নজরুল (৪৫), কাঞ্চন (৩০) শাহীন (৩৪), এরা হচ্ছে ইয়াবা ব্যবসায়ী, ও হেমায়েত (৩৭) গাঁজা বিক্রেতা।

গুদারাঘাটে আজিজুল ও পারুল মাদকের মামলায় গ্রেফতার হলেও তার স্পট সচল রেখেছে আমেনা বুজির ছেলে বাবু, নয়ন তারা, ও নুরুজামালের, নিয়ন্ত্রণে  পারুলের দুই মেয়ে রিংকি (২৩) ও পিংকি (২৫) স্বামী মনিরও।

গুদারাঘাট এইচ ব্লক (১৫) নম্বর রোডের মাদক কারবারি আল ইসলাম গ্রেফতার হলেও বাকিরা রয়েছে ধরা ছোয়ার বাহিরে। কিংশুক মাঠ ও মিনি গার্মেন্টসের গলি পর্যন্ত মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন মনিরের স্ত্রী দুলি, শ্যালক আজগর আলী, লালন, আলন, নুরু ও আকবরসহ ৫/৬ জন সহযোগীদের দিয়ে দিনরাত বিক্রি করছে ইয়াবা, হিরোইন ও গাঁজা। এইচ ব্লকের ৪ নম্বর রোডে মোটা আনোয়ার, নাসির, সুমন এবং ইসমাইলের পৃষ্ঠপোষকতায় দিনছুরের ছেলে আলামিন (২৭) ইয়াবা বিক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

১৫ নম্বর রোডের নামার দিকে মাদক বিক্রি করছে রহিম, বাবুর্চির ছেলে শাকিল, গফুরের ছেলে নুরুজ্জামান, সেলসম্যান রাজ্জাক এরা সবাই এইচ ব্লকের মাদক কারবারি এছাড়া সানু, তার স্ত্রী হনুফা বেগম এরা দু’জনেই গুদারাঘাট কাজীপুরী  ৯ তলার শ্বাশুড়ির বাসায় থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়াও রয়েছে মোটা রহমান, শিল্পী ও তার স্বামী জাহাঙ্গীর এরা দু’জনেই মাদক ব্যবসা করছে। এরা কাউন্দিয়া থাকলেও ৯ তলার সামনে মাদক বিক্রয়ের অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।

হাজীরোডে আলামিন (৩২), আলাউদ্দিন (৪৩), জাহাঙ্গীর (৪০) সুমন (৩১) রয়েল (২৮) উজ্জ্বল (৩৫), আমির (২৬), নজরুল (৪২), সুফি (৩৪), লম্বু কাল্লু (২৫), লিটোন (৩৫) নাসিমা (৩০) আবু-সাইদ (৩৭) সমিতি আলমঙ্গীর ও তার সহযোগী বাবু, এই সকল মাদক কারবারিদের গডফাদার হচ্ছে মাদক সম্রাজ্ঞী ফতের প্রক্তন স্বামী দুলাল। তিনি সোনারগাঁও বসে তার নিয়োজিত লোকের মাধ্যমে হাজীরোডের মাদকের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানায়। আলম হাজীর বস্তিতে মাদক বিক্রি করছে বাদল ও তার সহযোগী লিমা (২৭) আখী (২৯) সহ আরও নাম না যানা ৪/৫ জন।

ঝিলপাড় ও শাহীন পুকুর নামার বস্তির, মাদক নিয়ন্ত্রণ করছে আলতু জেলে থাকার কারনে তার স্ত্রী সাথী, কালা বিল্লাল (৪০), আনু (৪০) সাইফুল (৩৮)।

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নামার বস্তি, নাদিম (৩৪) আবু (৫০) নাসির (৩৪) জাহাঙ্গীরের ছেলে মিঠু (৩৭) স্টাফ কোয়াটারে লতিফের ছেলে চিকা আরিফ (৩৯) এরা সাবাই ইয়াবা বিক্রেতা।

থানার পাশেই শাহীন পুকুড় বস্তির স্পট গুলতে মাদক কারবার কখনও পুরোপুরি নির্মূল তো দূরের কথা, নিয়ন্ত্রণ করাও কষ্টসাধ্য হচ্ছিল। তবে এখন আগের তুলনায় অনেকটা মাদক কমেছে বলে যানিয়েছেন এলাকার অনেক সচেতন জনগন। এরা গ্রেফতার হয়েছে কয়েকবার  এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে  মামলাও রয়েছে।

তারা বলছেন, ওসির নিয়মিত ভাবে মনিটরিং, মাদকবিরোধী সাঁরাসি অভিযান তীব্র করার ফলে অনেক মাদক কারবারি, চিহৃিত সন্ত্রাসী, ও চাঁদাবাজরা গ্রেফতারের ভয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে। আবার অনেককে মাদকসহ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি যোগদানের পর মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অনেক বেশি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারনে অনেকটাই পুলিশের উপর আস্থা আসতে শুরু করেছে বলে মনে করেন এলাকা সচেতন জনগন।

তবে মাদক সিন্ডিকেটে সাথে যুক্ত পুলিশের অসাধু এসব সদস্যদের খুজেঁ বেড় করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক সাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া গেলে শাহ্আলী কেন্দ্রিক মাদক কারবার অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ অন্যায়ের চিত্র
Theme Customized By Theme Park BD