1. [email protected] : Annayer Chitro : Annayer Chitro
  2. [email protected] : struggle : Jaffrey Alam
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম ->>
মোটর সাইকেল চোর ও মাদক ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি মুরাদ আলী! অশান্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী মহানগরী; আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা! আদালতে চলমান মামলা ও ১৪৪ ধারা জারিকৃত সম্পত্তি দখল, বিবাদীর বাড়ির রাস্তা বন্ধ শেখ হাসিনা’র ৭৫তম জন্মদিনে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর শুভেচ্ছা সোনাগাজীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের মামলায় দেড় বছর কারাবন্ধী সাংবাদিক মীর জামাল বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তার উপদ‌ষ্টো কে ফু‌লের শু‌ভেচ্ছা জানা‌লেন বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তা প‌রিবার! জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে নিজ অর্থে রাস্তা মেরামত বরগুনায় ১০০ পিচ ইয়াবা সহ ১১ মামলার আসামী রিয়াজ গ্রেফতার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন

বিসিআইসি এখন সিবিএ নেতাদের দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়া (পর্ব-১) 

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১২৪ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি :-

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) কে নিয়ে হচ্ছে নানা গুঞ্জন। নিয়মবহির্ভূতভাবে ক্ষমতায় থেকে তারা নানা অবৈধ কার্যক্রম ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত করছে,  এখান কার শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) নেতারা।অভিযোগ রয়েছে মেয়াদ শেষ হলেও বছরের পর বছর নির্বাচন না দিয়ে একতরফাভাবে ক্ষমতা দখল করে ব্যপক দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন সিবিএর কয়েকজন নেতা।

নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি, কর্মচারী কোয়ার্টারে বাসা বরাদ্দসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষ নিয়ে অবৈধ টাকার মালিক বনে গেছেন তারা। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হলেও এসব অবৈধ টাকায় গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। কিনেছেন একাধিক গাড়ি ও প্লট। তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে শুধু বদলিই নয়, চাকরিও হারাতে হচ্ছে সাধারণ কর্মচারীদের।

সিবিএ নেতাদের এসব অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করতে সহায়তা করছেন বিসিআইসির কয়েকজন অসাধু কতিপয় কর্মকর্তা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিবিএ নেতারা।

বিসিআইসির একাধিক কর্মচারী জানান, ২০১৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি বিসিআইসি কর্মচারী লীগ কথিত একতরফ নির্বাচনে পরবর্তী দুই বছরের জন্য নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে। নির্বাচিত হওয়ার পর সভাপতি নুরুল হাদী, কার্যকরী সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, সহসভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম মাসুদ, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সহ কয়েকজন নেতা চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু করেন।

তারা বিসিআইসির কয়েকজন কর্মকর্তার সহায়তায় লাখ লাখ টাকার নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য শুরু করেন। এরপর ২০১৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুনরায় নির্বাচন দেয়ার কথা থাকলেও নানা অপকৌশল অবলম্বন করতে শুরু করে। একপর্যায়ে নির্বাচন না দিয়ে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে দুর্নীতি চালাতে থাকে। তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দেয়া হলেও বহাল তবিয়তে চালাতে থাকে অনিয়ম।

মিরাজ নামে এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, বিসিআইসি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তিনি চাকরির জন্য আবেদন করেন। একপর্যায়ে সিবিএ’র প্রথম সারির চারজন চাকরি দেয়ার কথা বলে তার পরিবারের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ঘুষ নেয়। পরবর্তীতে মিরাজ জানতে পারেন তার চাকরি হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। সেখানে কোনো টাকা লাগেনি। এরপর মিরাজ সিবিএ নেতাদের কাছে তার ছয় লাখ টাকা চাইতে গেলে ঘটে বিপত্তি।

একপর্যায়ে সিবিএ নেতারা ও বিসিআইসির কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের অপকর্ম গোপন রাখার জন্য মিরাজকে বরখাস্ত করে। রুমন, আলমগীরসহ চার-পাঁচজনের চাকরি চলে গেছে। আলমগীর নামে অপর এক কর্মচারী জানান, চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তিনি বিসিআইসি কোয়ার্টারে একটি বাসা বরাদ্দ পান। কিন্তু সিবিএ নেতারা ওই বাসায় ওঠার জন্য তার কাছে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দিলে তাকে কোয়ার্টারে উঠতে দেয়া হবে না বলে জানানো হয়।

আর এ নিয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ করলেও চাকরি হারানোর হুমকি দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে তিনি ঘুষ দিয়ে কোয়ার্টারে ওঠেন। কিন্তু বিপদ পিছু ছাড়েনি তার। কিছু দিন পরেই তাকে বদলি করার হুমকি দেন সিবিএ নেতারা। কিছু দিন পর নেতাদের সহযোগীরা এনে বদলি না হওয়ার জন্য নেতাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে আপস করতে বলে।

আলমগীর এর প্রতিবাদ করলে তাকে কোয়ার্টার থেকে জোর করে নামিয়ে দিয়ে বরাখাস্ত করার হুমকি দেয়া হয়। একপর্যায়ে আলমগীর হাইকোর্ট থেকে স্টে-অর্ডার এনে পুনরায় কোয়ার্টারে ওঠেন। সুমন নামে অপর এক কর্মচারী জানান, সিবিএ নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে বদলি করেন। এরপর নিজেরাই বদলি ঠেকানোর জন্য মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধেও নেমে আসে নানা নির্যাতন। তিনি হাইকোর্ট থেকে স্টে অর্ডার এনে নিজেকের রক্ষা করেন। তাদের অভিযোগ, সিবিএ নেতা ও কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা জোগসাজশে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বিসিআইসির শত শত কর্মচারী।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)তে দু’টি কর্মচারী সংগঠন রয়েছে। একটি বিসিআইসি কর্মচারী লীগ (রেজি. নং বি-২০০১) ও অপরটি বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী কর্মচারী দল (রেজি. নং ঢাক-১৫৬৫)। উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতের আমলে ২০০৩-২০০৫ সালে বিসিআইসি জাতীয়তাবাদী কর্মচারী দল (রেজি. নং ঢাক-১৫৬৫) সিবিএ’র কর্তৃত্বে ছিল।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর ক্রমান্বয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের সুবিধাবাদী নেতারা লেবাস পরিবর্তন করে ঢুকতে থাকে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এসব হাইব্রিড নেতার আগমন ঘটে ব্যাপকহারে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিসিআইসিতেও বিএনপি-জামায়াতের সুবিধাবাদী নেতারা লেবাস পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ সমর্থক সংগঠন ‘বিসিআইসি কর্মচারী লীগ’-এ ঢুকে পড়ে। এমনকি এরা এক পর্যায়ে কমিটিরও গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে নেয়। কতিপয় সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগ সমর্থক কর্মচারী নেতার সঙ্গে যোগসাজশ করে এরাই এখন গোটা বিসিআইসিতে নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। আগামি সংখ্যাতে বিস্তারিত আসছে…

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ অন্যায়ের চিত্র
Theme Customized By Theme Park BD