1. [email protected] : Annayer Chitro : Annayer Chitro
  2. [email protected] : struggle : Jaffrey Alam
বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম ->>
মোটর সাইকেল চোর ও মাদক ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি মুরাদ আলী! অশান্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী মহানগরী; আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা! আদালতে চলমান মামলা ও ১৪৪ ধারা জারিকৃত সম্পত্তি দখল, বিবাদীর বাড়ির রাস্তা বন্ধ শেখ হাসিনা’র ৭৫তম জন্মদিনে মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর শুভেচ্ছা সোনাগাজীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের মামলায় দেড় বছর কারাবন্ধী সাংবাদিক মীর জামাল বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তার উপদ‌ষ্টো কে ফু‌লের শু‌ভেচ্ছা জানা‌লেন বি‌ডি‌সি ক্রাইম বার্তা প‌রিবার! জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে নিজ অর্থে রাস্তা মেরামত বরগুনায় ১০০ পিচ ইয়াবা সহ ১১ মামলার আসামী রিয়াজ গ্রেফতার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন

বিরুলিয়ার সুজন চেয়ারম্যানের অপরাধ সাম্রাজ্য

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১
  • ১৯১ বার পঠিত

রেজাউল করিম ও এস এম রাসেলঃ-

ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদুর রহমান সুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। নানা দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত, স্বজনপ্রীতি, অনৈতিক প্রভাব বিস্তার, সালিশের নামে বানিজ্য ও বিচারপ্রার্থীদের হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছাড়াও দখল বাজি থেকে শুরু করে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তা করাসহ বন বিভাগের জমি দখল নিয়েও আছে তার নামে অনেক অভিযোগ।

এত অভিযোগ থাকার পরেও তার ক্যাডার বাহীনির ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে রাজি হয় না এলাকার সাধারন মানুষ। কিন্তু কেন কেউ মুখ খোলেন না তা সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে চেয়ারম্যান এর সকল অপরাধের চিত্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিরুলিয়ার একজন বাসিন্দা বলেন চেয়ারম্যানসহ তার সন্ত্রাসী লোকজন আমাকে অনেক মাইর ধোর করে আমি থানায় মামলা করতে গেলে সাভার থানায় আমি মামলা করতে পারি নাই। চেয়ারম্যানের টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায় সাভারের সাবেক ওসি এ এফ এম সায়েদ। আমার মামলা না নিয়ে আমার সাথে বিভিন্ন তাল বাহানা করেন ওসি সায়েদ। তার পর আমি কোর্টে মামলা করি সেই মামলা আসামী চেয়ারম্যানের বড় ভাই মিরাজসহ আরও ৭/৮ জন আছে। শুধু তাই না চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আছে অনেক অভিযোগ। কিছু দিন আগে বিরুলিয়ার খেয়াঘাট এলাকায় মুকতি নামের এক জনের জমি দখল করেন চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহীনি। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে সাইন বোর্ড উঠিয়ে ফেলে চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহীনি।

এখানেই শেষ না চেয়ারম্যানের নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগে মামলাও হয়েছিল সাভার থানায় সেই মামলাতে গ্রেফতার হয়েছিল এই চেয়ারম্যান। তার পর জামিনে আসেন, জামিনে আসলেও চলে যায় তার চেয়ারম্যানি। পরে হাইকোর্ট কোর্টে রিট করলে, মহামান্য হাইকোর্ট তাকে ৬ মাসের সময় বেধে দেন। যার সময় আগস্ট মাসের ২৬ তারিখে শেষ হবে। হায়দার বলেন তা শুনলে অবাক হবেন দেশ বাসী।

হায়দার বলেন চেয়ারম্যান সুজন আমার ভাতিজা। গত নির্বাচনের আগে জমি বিক্রি করে নির্বাচন করলেও এখন করেছেন আলিশান বাড়ি। কোথায় পেলো এত টাকা। হায়দার আরো বলেন আমার তালাক দেওয়া বৌ কে জোর করে আমার বাড়িতে রেখে আমাকে মেরে ফেলার সড়যন্ত্র করছিল আমার ভাতিজা চেয়ারম্যান সুজন। কিনতু আল্লাহুর অশেষ রহমতে আমি ওই খান থেকে পালিয়ে জানে বেচে যায়। তার পর থেকে আমি আর বাড়িতে যেতে পারিনা। ঢাকার আনাচে কানাচে খেয়ে না খেয়ে আজ ২ মাস ধরে বেচে আছি। আমি আপন লোক তারপরও যদি এমন হয়। তাহলে বিরুলিয়া ইউনিয়নের সাধারন মানুষের কি অবস্থা সেইটা আপনারাই বলেন! হায়দার আরো বলেন চেয়ারম্যান এর আছে একটা সন্ত্রাসী বাহিনি সেই বাহিনি পরিচালান করেন তারই এক চাচাতো ভাই এই বাহিনির প্রধান আমার নিজের ভাতিজা। শুধু এখানেই শেষ না।

চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে বরখাস্ত হন সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন। তার বিরুদ্ধে কোটি টাকা চাঁদা দাবিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে মেসার্স মোজাফ্ফর এন্টারপ্রাইজের মালিক হাজী মো. মোজাফ্ফর হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন।

এর আগে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা নং-৭৬০/২০২০ দায়ের করেন ভুক্তভোগী মোজাফ্ফর হোসেন।এছাড়াও আশরাফুল ইসলামের নামার এক ব্যাক্তি কিছু দিন আগে বাড়িটি তিনতলা থেকে চারতলায় উন্নীত করতে কাজ শুরু করলে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজন তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এর পর পুলিশ অভিযুক্ত চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজনকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাভার উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের বিতর্কিত চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে থানায় মামলা এবং গ্রেফতার হওয়ায় সাইদুর রহমান সুজন কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩৪(১) অনুযায়ী তার স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরিষদের কার্যক্রমসহ সব উন্নয়ন প্রকল্প একক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়ন, উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিম্নমানের কাজ, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অনিয়ম, প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা আদায়, পার্সেন্ট গ্রহণ, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, ৪০ দিনের কর্মসূচি, আশ্রয়নের উন্নয়ন কর্মকান্ডের অর্থ আত্মসাৎ, গ্রাম্যসালিশে বিচার প্রার্থীদের নির্যাতন ও বেআইনি জরিমানা, সরকারি খাল-বিল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ ইউনিয়ন পরিষদে নানা অসামাজিক কর্মকান্ড করে আসছেন এই চেয়ারম্যান। একের পর এক চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ওই এলাকার জনগন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক মুরুব্বি জানান, ইউনিয়নের এমন কোন বিষয়টি নেই যে বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান নাক গলান না। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় সে সাধারণ মানুষদেরকে দুই ভাগ করে রেখেছে। তার অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাবের কারণে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। আরেকজন জানান, চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই প্রভাব কাঠিয়ে আমাদের এলাকায় একের পর এক ঝগড়া বিবাদ লাগিয়ে রাখছেন।

এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ অসহায় দরিদ্রদের না দিয়ে সে তার নিজের লোকদের দিয়ে দিচ্ছে। আর এতে করে অসহায়রা আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। ৭ নং বিরুলিয়ার ইউনিয়নের সুজন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনিত নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে মামলা থাকতেই পারে! আর এসকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ অন্যায়ের চিত্র
Theme Customized By Theme Park BD